ভোর হতেই পুটলিটা গলির মুখে অবির্জনার স্তুপে পড়ে থাকতে দেখা গেল। প্রতিদিনের মতো ভোরের কাকগুলো রাস্তায় নামল খাবার খুঁজতে। মেথর-ঝাড়দাররা ঝাড়, ঠেলা বালতি নিয়ে কাজে নেমেছে, রোজকার মতো শ্রাবণের ভোর থমথমে মুখ নিয়ে আকাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। গলির ওপারে বড় রাস্তার পাশে মাথা উচু করে বঙ্কিমচন্দ্রের পাগড়ির মতো মস্ত বড় জলের ট্যাঙ্ক চারদিক তাকিয়ে আছে। পত্রিকা নিয়ে হকার তখনো পথে নামে নি। কে একজন প্রাতঃভ্রমণ-বিলাসী ছড়ি হাতে ক্যাবিশের জুতাে পায়ে হনহন করে গলি থেকে বেরিয়ে গেল। মতিঝিলের বড়বড় ইমারতগুলো দিবিজয়ী বীরের মতো বুক টানটান করে মাথা উচিয়ে লুপ্তপ্রায় ঝিল ও আশপাশের বস্তির ওপর নজর দিয়েছে।